প্রতিবেদনের শিরোনাম:
সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলি পরিচালানার কৌশল চিহ্নিত করন ও কৌশল বাস্তবায়ণে নবনিযুক্ত শিক্ষকদের ভূমিকা
প্রতিবেদন তৈরির সময়: সকাল ৭ টা
প্রতিবেদন তৈরির তারিখ: ৩১/০৫/২০২১ ইং
প্রতিবেদকের নাম ও ঠিকানা:
হাবিবুর রহমান
পাইকপাড়া বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
রেজি: ৪
ভূমিকা
প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য শিশুর দৈহিক, মানসিক, নৈতিক, আধ্যাতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নান্দনিক বিকাশ সাধন এবং উন্নত জীবনের স্বপ দর্শনে উদ্ধুদ্ধকরণ। উক্ত লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য শিক্ষাক্রমের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত যে সমস্ত কার্যক্রম তাকে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলি বলা হয়। শিক্ষাক্রমের আওতাভূক্ত গণিত, বাংলা, ইংরেজি, সমাজ, বিজ্ঞান, ধর্ম ইত্যাদি ছয়টি বিষয় ছাড়াও সংগীত, চারু ও কারুকলা এবং শারীরিক শিক্ষা এই তিনটি বিষয়কে ইতিমধ্যে শিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের অন্তভূর্ক্ত করা হয়েছে। উক্ত বিষয়গুলোকে সমৃদ্ধশালী ও পরিপূর্ণ করার জন্য এবং শিশুর বহুমুখী বিকাশসাধনের জন্য বিশেষ করে শিশুর দৈহিক, মানসিক, নৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের গুরুত্ব অপরিসীম।
সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম
সহ শিক্ষাক্রমিক কার্য বলতে সাধারণভাবে পুঁথিগত বিষয়ের বাইরে জ্ঞানার্জনের প্রক্রিয়াসমূহকে বোঝায়। এই প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশের সাথে সাথে সামগ্রিক জীবন ও সৃজনশীলতার বিকাশে পূর্ণ সহযোগিতা করে। সহ-শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলীর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এ ধরনের কার্যাবলী শ্রেণীকক্ষের পঠন পাঠনের একঘেঁয়েমী ও অবসন্নতা দূর করে এবং সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে সহায়তা করে। এছাড়া ছাত্রছাত্রীদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার ঘটায় ও তাদেরকে মূল্যবোধে উজ্জীবিত করে। অধিকন্তু প্রতিষ্ঠানের সহ- শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলীতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের প্রতিষ্ঠানের প্রতি আনুগত্য বৃদ্ধি পায় এবং দেশ ও সমাজ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। এর মাধ্যমে তরুণ ছেলেমেয়েরা বাস্তব জীবনের সাথে প্রত্যক্ষভাবে পরিচিত হয় এবং সহযোগিতা, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জাগিয়ে তোলে। সর্বোপরি সহ- শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলীর মাধ্যমে শৃঙ্খলাবোধ জাগরিত হয়, ভবিষ্যত বৃত্তি নির্বাচনে সহায়ক হয়। এমনকি প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধিসহ সকলের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সুসম্পর্ক সৃষ্টি হয় এবং তরুণ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অবসর সময়কে কাজে লাগানোর অভ্যাস গড়ে ওঠে।
সহ শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলীর গুরুত্ব
শিক্ষা ব্যবস্থায় সহ শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলীর গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমান সময়ে সহ শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী এত বৈচিত্রময় যে, সব কাজের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করা সম্ভবপর নয়। প্রকৃতি ও উদ্দেশ্যের উপর ভিত্তি করে সহ শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলীকে বিভিন্ন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়। সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে খেলাধুলা ও শরীরচর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। সহ শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী হিসেবে বিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরণের শরীরচর্চামূলক কাজ ও ব্যায়াম করা যেতে পারে। শরীর চর্চামূলক কাজ হিসেবে দৌড়, লাফ, ঝাঁপ গৃহীত হতে পারে। এছাড়া যেসব সহ শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী শিক্ষার্থীকে সৃজনশীল হতে সাহায্য করে, জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়ন ঘটায় সেগুলো শিক্ষামূলক কার্যাবলীর অন্তর্গত। বিতর্ক প্রতিযোগিতা, দেয়ালিকা, স্কুল বার্ষিকীতে লেখালেখি, বিজ্ঞান ও বইমেলা, কবিতা লেখা, গল্প লেখা, ছবি আঁকা ইত্যাদি শিক্ষামূলক কার্যাবলী হিসেবে পরিচিতি। অধিকন্তু বিভিন্ন জাতীয় ও ধর্মীয় দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা। সাংস্কৃতিক ক্লাব গঠন করে সংগীত, নাট্যানুষ্ঠান, কবিতা, আলোচনা সভার আয়োজন করা এবং সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত বৃত্তি নির্বাচনের ব্যাপারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিচালিত কিছু কিছু কার্যক্রম সহায়তা করে। হাঁস-মুরগী পালন, শাক-সব্জি চাষ, হস্তশিল্প, সেলাই, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ইত্যাদি শিক্ষার্থীর মধ্যে নির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে। সর্বোপরি সামাজিক গুণের বিকাশ ঘটে থাকে। সাক্ষরতা অভিযান, স্বাস্থ্য সপ্তাহ পালন, রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা যেতে পারে সামাজিক গুণের বিকাশ হিসেবে।
সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলি পরিচালনার কৌশল
সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলি বাস্তবায়নে সবার আগে শিক্ষকরা এগিয়ে আসতে হবে। শিক্ষকদের পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থীরাও এগিয়ে আসে । সহশিক্ষা্ক্রমিক কার্যবলি বাস্তবায়ন করতে হলে সর্বপ্রথম পরিকল্পনা করতে হবে। এবং চিহ্নিত করতে হবে কি সহশিক্ষাক্রমিক কার্য়বলি করতে হবে।যেমন: নিচে কতগুলো সহশিক্ষাক্রমিক কার্যবলি চিহ্নিত করা হল:
১। খেলাধুলা ও শরীরচর্চা মূলক কাজ- হাডুডু, ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, কাবাডি, বিভিন্ন ব্যয়াম ইত্যাদি।
২। শিক্ষামূলক কার্যাবলী- বিজ্ঞান/ বই মেলা, শিক্ষা সফর, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, দেয়ালিকা, কবিতা, ছবি আঁকা ইত্যাদি।
৩। সংস্কৃতি ও বিনোদন মূলক কাজ-বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতীয় দিবসে অনুষ্ঠান আয়োজন, সাংস্কৃতিক ক্লাব গঠন ইত্যাদি।
৪। বৃত্তিমূলক কার্যক্রম- সেলাই, হস্ত শিল্প, হাঁস মুরগী চাষ, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ইত্যাদি।
৫। সামাজিকগুণের বিকাশ- বৃক্ষরোপণ, সাক্ষরতা,রক্তদান কর্মসূচী ইত্যাদি।
৬। ভ্রমণমূলক কার্যাবলী- শিক্ষা সফর, বনভোজন, স্কাউটিং ইত্যাদি।
এ সকল সহশিক্ষাক্রমিক বাস্তবায়নে নিচের কৌশল সমূহ প্রয়োগ করা যেতে হবে।
১। সহ শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলীতে শিক্ষার্থীকে বিষয় নির্বাচনে স্বাধীনতা দিতে হবে।
২। সহ শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী স্কুল চলাকালীন সময়ে শেষ করতে হবে।
৩। সহ শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী বিদ্যালয়ের সময় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৪। সহ শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী বাস্তব প্রয়োগে ছাত্র –শিক্ষক- অভিভাবক সম্পর্ক জোরদার করতে হবে।
৫। সহ শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলীর জন্য বৎসরের শুরুতেই বাজেট রাখতে হবে।
৬। শিক্ষকদের অনীহা কাটাতে হবে।
৭। এসএমসির সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।
৮। শিক্ষার্থীদের প্রণোদিত করতে হবে।
সহ শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী পরিচালনার জন্য এসকল মূলনীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীর অবশ্যই সহ শিক্ষাক্রমিক কাজ পছন্দ করার স্বাধীনতা থাকতে হবে। যার মাধ্যমে কাজে স্বতঃস্ফূর্ততা আসবে। বিদ্যালয় চলাকালীন এই কার্যক্রম হলে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। সহ শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে, যেন শ্রেণী কক্ষের কাজ বিঘ্নিত না হয়। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকমন্ডলী দ্বারা সহ শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী পরিচালনা করতে হবে।
নবনিযুক্ত শিক্ষকদের ভূমিকা
নবনিযুক্ত শিক্ষকরা সহশিক্ষাক্রমিক বাস্তবায়নে অবশ্বেই সিনিয়র শিক্ষকদের থেকে অভিজ্ঞতা নিতে হবে যাতে এ কাজে তার জড়তা দূর হয় । এছাড়া নতুন শিক্ষক হিসেবে তাকে ট্রেনিং এর প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। তার বাস্তব জীবনে অভিজ্ঞতা কাজি লাগাতে হবে।এলাকার বিজ্ঞ ব্যাক্তিদের সাথে সমন্বয় করে নবনিযুক্ত শিক্ষকরা সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম পরিচালা করবেন।
সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমে অবশ্যই পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন। গাইড লাইন অনুসরণ পূর্বক সকল শিক্ষার্থীরা যাতে অংশগ্রহণ করতে পারে সে ব্যবসথা গ্রহণ করবেন।
উপসংহার:
সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলি শিশুর সার্বিক বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। যেমন- খেলাধুলা ও শবীর চর্চার বিষয়টি শিশুর দৈহিক বিকাশে বা শারীরিক বর্ধনে সহায়ক ভূমিকা রাখে। সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের অনুশীলণন শিশুমনের সুকুমার বৃত্তির উন্মেষ ঘটায় এবং শিশুর নাক্সদনিকতার বিকাশ সাধন করে। সাহিত্য বিষয়ক কর্মকান্ডের অনুশীলন শিশুর লেখালেখির হাত মজবুত করে সাহিত্য প্রতিভার বিকাশ সাধন করে। শিশুর সামাজিকতা ও ক্সনতিকতার বিকাশ সাধনে ভূমিকা রাখতে প্রয়োজন সামাজিক কর্মকান্ড বিষয়ক কার্যাবলি। বিদ্যালয় এবং সমাজের প্রতি, মানুষের প্রতি দায়িত্ব সচেতনতার বোধ জাগায় ও শিশুর মানবিক গুণাবলির উন্মেষ ঘটায়। আকস্মিক ও জরুরী প্রয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ, যেমন বন্যা ও ঘূর্নিঝড় ইত্যাদিতে সেবা প্রদান করা যায়। এ ধরনের সমাজ সেবামূলক কাজে যোগদানের ফলে শিক্ষার্থীর মধ্যে সামাজিক চেতনা, শৃঙ্খলাবোধ, সেবার মনোভাব, স্বার্থত্যাগসহ বাঞ্ছিত গুণের বিকাশ ঘটে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্টুডেন্ট কাউন্সিল গঠন
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলী বিকশিত করা এবং তাদেরকে দায়িত্ববান সুনাগারিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্টুডেক্সটস কাউন্সিল গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ২০১০ সনে ১৯টি জেলার ২০টি উপজেলায় ১০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মত প্রাথমিক বিদ্যালয় স্টুডেক্সটস কাউন্সিল গঠন করা হয়। ২০১০ সনে প্রথম বারের মতো নির্বাচিত স্টুডেক্সট কাউন্সিলের সার্বিক কার্যক্রমে শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ এবং উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১১ সনে ৭৪৩টি বিদ্যালয়ে, ২০১২ সালে ১৩,৫৮৩টি বিদ্যালয়ে, ২০১৩ সালে ৪৬,৭৭৩টি বিদ্যালয়ে, ২০১৪ সালে ৬১,১৯১টি বিদ্যালয়ে, ২০১৫ সালে ৬৪,২২৩টি বিদ্যালয়ে, ২০১৬ সালে ৬৪,৭৯০টি বিদ্যালয়ে সারাদেশে একযোগে স্টুডেক্সটস কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। স্টুডেক্সটস কাউন্সিল এর সাফল্যজনক কর্মকান্ডের ধারাবাহিকতায় পর্যায়ক্রমে দেশের সকল প্রাথমকি বিদ্যালয়ে স্টুডেক্সট কাউন্সিল গঠনের সিদ্ধাÍে হয় এবং সে মোতাবেক প্রতিবছরের শুরুতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্টুডেক্সটস কাউন্সিল গঠন ও নির্বাচন বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর হতে পত্র জারি হয়ে থাকে।
স্টুডেন্টস কাউন্সিলের গঠন প্রক্ষিয়া
ছাত্রছাত্রীদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রত্যেক স্টুডেক্সটস কাউন্সিলে ৭ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকবে যারা একবছর মেয়াদের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন। তন্মধ্যে ৩য় শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীরা নির্বাচনে প্রার্থী হবে এবং ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যÍে প্রতি শ্রেণি থেকে কমপক্ষে ২ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হবে। প্রতিবছর জানুয়ারি-ফ্রেব্রæয়ারি মাসে স্টুডেক্সটস কাউন্সিলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচিতদের মধ্যে একজন প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হবেন। এছাড়াও প্রতি শ্রেণিকক্ষ/শাখা থেকে (১ম-৫ম শ্রেণি) ১ জন ছাত্র ও ১ জন ছাত্রীকে সহযোগী প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করা হয় যারা স্টুডেক্সটস কাউন্সিলের কাজে সহযোগিতা করে থাকে। উল্লেখ্য, স্টুডেক্সটস কাউন্সিল নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনার, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার এবং শৃখলার দায়িত্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরাই পালন করে। শিক্ষক ও ¯‥ুল ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং অভিভাবকগণ এ বিষয়ে সহযোগিতা করেন। নির্বাচনে মুদ্রিত পোস্টার ও প্রতীক ব্যবহার করা হয় না।
নিরাপদ সড়ক
বাংলাদেশ পৃথিবীর একটি অন্যতম জনবহুল দেশ। বাংলাদেশের আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর-এর আওতায় ৩৮১২.৭৮ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক ও ৪২৪৬.৯৭ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়ক রয়েছে। দেশের বিভিন‣ স্থানে সহজে ও স্বল্প ব্যয়ে যাত্রী চলাচল ও পণ্য পরিবহণে সড়ক পথ অত্যে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। বর্তমানে যাত্রী পরিবহনের প্রায় ৭০% এবং পণ্য পরিবহনের ৮০% সড়ক পথে পরিবহণ করা হয়ে থাকে। সে কারণে সড়ক পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যÍে গুরুত্বপূর্ণ। সড়ক দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য, কারণ দুর্ঘটনা ঘটেনা, ঘটানো হয়। অর্থাৎ দুর্ঘটনা কোন অলে․কিক কারণে সংঘটিত হয়না, বরং লে․কিক কারণে হয়ে থাকে-সেটা হতে পারে চালকের ত্রুটি, যানবাহনের, পথচারীর বা রাস্তার ত্রুটি ইত্যাদি। যদি এ সব বিষয় নিয়¿েণ করা যায় তাহলে সড়ক দুর্ঘটনার হার কমানো সম্ভব। দুর্ঘটনা কমলে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে হ্রাস পাবে। এ জন্য প্রয়োজন সড়ক নির্মাণকারী সংস্থা, প্রশাসন, পুলিশ, পরিবহণ মালিক, পরিবহণ শ্রমিক, জনসাধারণ, সড়ক ব্যবহারকারী সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
সড়ক দুর্ঘটনা কারণসমূহ :
মাত্রাতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত যাত্রী ও মাল বহন করা, বিপজ্জনক/ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেক করা, ত্রুটিযুক্ত গাড়ি চালানো, প্রশিক্ষণবিহীন ও স্বল্প প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত অদক্ষ অযোগ্য ড্রাইভার কর্তৃক গাড়ী চালানো এবং নেশাগ্রস্থ অবস্থায় গাড়ী চালানো, মহাসড়কে ধীর গতি সম্পন‣ যানবাহন চলাচল যেমন থ্রি হুইলার, নসিমন, করিমন, ভটভটি, ইজি বাইক ইত্যাদি, অপ্রশস্ত রাস্তা এবং রাস্তার নির্মাণজনিত ত্রুটি, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, অ‣বধভাবে ওভার টেকিং করা এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করা, বাসের ছাদে ও মালবাহী ট্রাকের উপর যাত্রী/মালামাল বহন করা, নিরাপদে সড়ক ব্যবহার সম্পর্কে সড়ক ব্যবহারকারীদের অজ্ঞতা ও আইন না মানার প্রবণতা, ফুটপাথ ব্যবহার না করে রাস্তার মাঝ পথে চলা এবংফুট ওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে ব্রিজের নীচ দিয়ে রাস্তা পার হওয়া, বিভিন‣ পরিবহনের অসুস্থ ও বিপদজনক প্রতিযোগিতা,যত্রতত্র পার্কিং ও রাস্তার মাঝে গাড়ি দাঁড় করানো, সড়ক নিরাপত্তা জনিত ট্রাফিক সাইন/সিগন্যাল ও রোড মার্কিং পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকা, অ‣বধভাবে ফুটপাথ দখল এবং মহাসড়কের পাশে অ‣বধ হাটবাজার ও অবকাঠামো নির্মাণ, ডানে ও বামে না দেখে দে․ড়ে রাস্তা পার হওয়া এবং পথচারী ও সড়ক ব্যবহারকারীগণ কর্তৃক অসতর্কভাবে সড়ক ব্যবহার করা, মহাসড়কগুলোতে ডিভাইডার না থাকা, ট্রাফিক আইন প্রয়োগে শিথিলতা, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের হেলমেট ব্যবহারে অনীহা, গাড়ি চালানো অবস্থায় চালক কর্তৃক এয়ার ফোন ও মোবাইল ফোনে কথা বলা, হেলপার দ্বারা গাড়ি চালানো প্রভৃতি।
সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিকারের উপায়সমূহ
মাত্রাতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো ও অতিরিক্ত মালামাল বোঝাই/গাড়ি ছাদে যাত্রী উঠানো এ সব কার্যক্রম বন্ধে হাইওয়ে পুলিশের টহল বাড়ানো এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা, পেশাজীবী গাড়ি চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান, জাতীয় মহাসড়কে -হুইলার অটোরিক্সা ও অটোটেম্পু, ইজিবাইক, নসিমন, করিমন, ভটভটি ও ব্যাটারিচালিত যানবহান এবং সকল প্রকার অযাচিত যানবাহন চলাচল বন্ধ করা, যানবাহনে অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রনের (এক্সেল লোড) বিষয়টি আরও কঠোরভাবে কার্যক্রম করা, মহাসড়কের পাশে ¯মুভিং যানবহানের জন্য আলাদা রো/লেন নির্মাণ করা, হাইওয়ের টার্নিং পয়েক্সেট রোড-ডিভাইডার নির্মাণ এবং পর্যাপ্ত ট্রাফিক সাইন ও সিগন্যাল স্থাপন করা, পথচারীদের ফুটপাথ ও ফুট ওভার ব্রিজ ব্যবহার বাধ্য করা, প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চালানো হতে চালকদের বিরত রাখা, প্রধান মহাসড়গুলোতে ডিভাইডার দেয়া এবং ক্রটিপূর্ণ রাস্তা তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত করা, অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো বন্ধে কার্যকর করা এবং নির্ধারিত গতিসীমার মধ্যে গাড়ি চালাতে চালকদেরকে বাধ্য করা, সড়ক নিরাপত্তামূলক বক্তব্য ও বিজ্ঞাপন বিভিন‣ ইলেকটনিক ও প্রিক্সট মিডিয়াতে প্রচার করা, ¯স্কুল/কলেজের পাঠ্যসূচিতে শ্রেণি ও বয়সভিত্তিক সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক পাঠ্য অর্ভেুক্তির ব্যবস্থা করা, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীকে হেলমেট পরিধান এবং গাড়ীচালকদের সিটবেল্ট ব্যবহারে বাধ্য করা, গাড়ি চালকদের নেশা জাতীয় পানীয় সেবন ও তন্দ্রা অবস্থায় গাড়ি চালানো হতে বিরত থাকা, সড়ক/মহাসড়কে ধান শুকানো ও নির্মাণ সামগ্রী রাখা বন্ধ করা, সড়ক ও মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রবন এলাকা চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা, প্রতি পাঁচ ঘণ্টা গাড়িচালনার পর কমপক্ষে আধাঘণ্টা বিশ্রাম, দিয়ে সর্বো‛চ আট ঘণ্টা এবং সপ্তাহে আটচল্লিশ ঘণ্টা র অধিক গাড়ি না চালানো, দূর পাল্লার গাড়িতে একাধিক চালক নিয়োগ নিশ্চিত করা।