আমি এখানে ৩টি ধাপে আপনাদের সাথে আলোচনা করব।
১. নতুন ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন সমূহ।
২. ই-পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন
৩. ই-পাসপোর্ট গ্রহণ।
১. নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন সমূহ
-------------------------------------------------------------
১.১ নতুন ই-পাসপোর্ট অনলাইনে আবেদন করা সর্বোত্তম।
১.২ আপনে নিজে / যারা আবেদন করে তাদের সাহায্য নিতে পারেন।
১.৩ আবেদনের জন্য যা লাগবে। তাহলে, যদি ১৮ বছরের নিচে হন, তাহলে - Online Birth-certificate নাম্বার এবং বাবা-মার NID Card Number MUST. ( Use JSC/SSC/HSC for name, address, etc more confirm )
যদি ১৮+ হন এবং NID Card আছে, তাদের ক্ষেত্রে NID Card হলেই হবে। যদি NID card না থাকে, তবে বয়স ১৮+ সে ক্ষেত্রে আবার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন।
জন্ম নিবন্ধন - বাংলা ভাষা/ইংরেজি ভাষা যেকোনো একটা হলেই চলবে। তবে শর্ত হলো- অনলাইন হতে হবে।
১.৪ ই-পাসপোর্ট অনলাইনে আবেদন করার সময়, কিছু বিষয় মাথাই রাখবেন।
১.৪.১ নিজে ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করুন।
১.৪.২ নিজের নামে একটি ইমেইল খুলন ( যদি না থাকে ) সাধারণত, তারা সমস্ত তথ্য ইমেইলে পাঠিয়ে থাকে। তাই ইমেইল হবে আপনার জন্য সর্ব-উত্তম।
১.৪.৩ নিজের নামের সাথে যদি ( ডট/dot ) থাকে তাহলে ফরম এবং ব্যাংক-ড্যাপ এর সময় ( ডট/dot ) ব্যবহার করবেন না। যেমন ধরেন, আমার নাম Md. Masum Molla Alhaz সুতরাং ফরম এ হবে - Md Masum Molla Alhaz ( সুধুমাত্র ডট/dot ব্যবহার করা যাবে না ) এর কারণ হচ্ছে, আপনে যদি বাংলাদেশের বাহিরে ই-পাসপোর্ট এর মাধ্যমে লোকাল ব্যাংকে বা অনলাইনে ব্যাংকে একাউন্ট খুলেন সে ক্ষেত্রে সমস্যার মুখোমুখি হবেন এবং অন্য সব বেপার-সেপার রয়েছে বটে।
১.৫ ই-পাসপোর্ট এর সমস্ত তথ্য হবে আপনার - Birth-certificate/JSC/SSC/HSC এর তথ্য অনুসারে। ( বাবা-মায়ের NID Card এ যদি তথ্য ভুল থাকে, যেমন - নামের বানান, ঠিকানা ) কিন্তু আপনার Birth-certificate/JSC/SSC/HSC সব গুলোতে ঠিক আছে। এতে চিন্তার কিছু নাই।
১.৬ ধরেন, আপনে কিছু ভুল তথ্য/বানান এ ভুল করছেন, আর সাবমিট ও করা শেষ।এখন আর এডিট করতে পারছেন না। চিন্তার কারণ নাই। এখানে সেখানে দৌড়াদৌড়ি করার ও প্রয়োজন নেই। আপনে ভুল তথ্য গুলো নোট করে নিয়ে যাবেন, যখন আবেদন পত্র জমা দিতে যাবেন। ছবি তোলার সময় তারা আপনার সমস্ত তথ্য মিলিয়ে দেখবে, তখন আপনার সমস্যার কথাগুলো বলবেন। ( মনে রাখবেন, অনলাইনে ই-পাসপোর্ট আবেদন করার মূল লক্ষ্য হচ্ছে, ফরম ফিল-আপ করা এবং এ্যাপয়েনমেন্ট সিডিউল সেট করা, আর অনান্য সুবিধাতো আসেই )
১.৭ পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার সময় - যদি বয়স ১৮ এর কম হয়, তাহলে - অনলাইন জন্ম নিবন্ধন এর ফটোকপি ( অর্জিনাল হলে ভালো হবে। জন্ম নিবন্ধন টা, অনারা শুধুমাত্র স্ক্যান করবে, তাদের সার্ভারে স্টক করে রাখার জন্য।) আর একটা ফটোকপি করে নিয়ে যাবেন, তাদের কে দেয়ার জন্য। তার সাথে পিতা-মাতা NID Card এর ফটোকপি বাধ্যতামুলক। আর যদি, ১৮+ হয় এবং NID Card আছে, সে ক্ষেত্রে NID card নিয়ে যাবেন। বিদ্যুৎ বিলের কাগজ টাও নিয়ে যাবেন মনে করে 😁
১.৮ ব্যাংক ড্যাপ আপনে যে কোনো সময় করতে পারবেন। মনে রাখবেন, আবেদন পত্র জমা দেয়ার ১ ঘণ্টা আগে দিলেও চলবে।
২. পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন / পুলিশ ভেরিফিকেশন
---------------------------------------------------------
২.১ আবেদন পত্র জমা দেয়ার সময়, যিনি আপনার ছবি তোলবে, তাকে যদি ১০০০-১৫০০ টাকা হাতে দিয়ে আসেন, তাহলে আপনার পুলিশ ভেরিফিকিশন আসবে না। তিনিই সব করে দিবেন। এটা বাংলাদেশ ভাই, সবই সম্ভব, এমন রেকর্ড হাজার হাজার আছে। অন্য দিক থেকে ভাবেন, যাদের পাসপোর্ট ২ দিনে হয় তাদের কথাই বা চিন্তা করেন 😁
২.২ যদি পুলিশ ভেরিফিকিশন আসে, তাহলে তো কথাই নেই। কম-পক্ষে হলেও ১০০০ টাকা নিবে। আর যদি, বাবা-মা NID card বা বিদ্যুৎ বিল কাগজে - নাম বা ঠিকানা ভুল থাকে, তাহলে তো ভাই কথাই নেই। সংশোধন করার জন্য ৩০০০+ টাকার বেশি চেয়ে বসবে। আর যদি দেখে আপনার বড়লোকের ভাব, তো বোঝতেই তো পারছেন 🙃
আসলে এসব কিছুই না! আপনার Birth-certificate/JSC/SSC/HSC এর সাথে তথ্য ঠিক থাকলে সব ঠিক।
২.৩ সাধারণত, পাসপোর্ট এর আবেদন জমা দেয়ার ৪-৫ দিন পর পুলিশ ভেরিফিকেশন আসে।
৩. পাসপোর্ট গ্রহণ
------------------------------
৩.১ আগেই বলেছি, ই-পাসপোর্ট এর জন্য ইমেইল হবে বেস্ট। সমস্ত তথ্য আপনে ইমেইল এ পাবেন।
মোবাইলে এসএমএস আসলে আসতেও পারে আবার নাও পারে। বাংলাদেশের যে সার্ভার ভাই 😑 আমি পাসপোর্ট গ্রহণের আগে একটিও এসএমএস পাই নি, যখন ব্যাংক ড্যাপ করেছিলাম তখন একটি পেয়েছিলাম।
৩.2 আমার ১৭ দিন লাগছে, ই-পাসপোর্ট বের হতে। অন্য কারও ক্ষেত্রে কম-বেশি হতে পারে।
৩.৩ পাসপোর্ট গ্রহণের সময় অবশ্যই, প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে যাবেন। শুধুমাত্র, আবেদন পত্র জমা দেয়ার পর - আপনাকে যে কগজটি দিয়েছিল ওটা নেলেও হয়। তাছাড়া, বলাতো যায় না, তখন কোনটা চেয়ে বসে।আর না দিতে পারলে, টাকা দেন! করে দিচ্ছি 🤣 এটাই তাদের শেষ বাক্য
৩.৪ পাসপোর্ট গ্রহণের রুম নাম্বার ৩০৫ এবং ৩০১। ৩০৫ থেকে টোকেইন গ্রহণ করে, তার পর ৩০১ থেকে ফিংগার প্রিন্ট দিয়ে পাসপোর্ট গ্রহণ করতে হবে।
নোটঃ আপনাদের সুবিধার জন্য কিছু ছবি এবং ওয়েবসাইটের লিংক দেওয়া হলো। আরও ডিটেইলস জানার জন্য, ইউটিউব থেকে ঘুরে আসতে পারেন 🙃 আর কিছু জানা থাকলে, অবশ্যই কমেন্ট করবেন।
আশা করি, অনেক কিছু জানতে পারলেন ই-পাসপোর্ট এর সম্পর্কে। ভালো লাগলে এবং এর থেকে যদি উপকার হয়ে থাকেন, তাহলে পোস্টটি অবশ্যই শেয়ার করবেন অন্যকে জানানোর জন্য।
আপনার মূল্যবান সময় দিয়ে, পোস্টটি পড়ার জন্য, অসংখ্য ধন্যবাদ।
https://www.epassport.gov.bd/instructions/instructions
https://www.epassport.gov.bd/instructions/passport-fees