সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলি পরিচালানার কৌশল চিহ্নিত করন ও কৌশল বাস্তবায়ণে নবনিযুক্ত শিক্ষকদের ভূমিকা

সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলি পরিচালানার কৌশল চিহ্নিত করন ও কৌশল বাস্তবায়ণে নবনিযুক্ত শিক্ষকদের ভূমিকা

 

প্রতিবেদনের শিরোনাম:

 সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলি পরিচালানার কৌশল চিহ্নিত করন কৌশল বাস্তবায়ণে নবনিযুক্ত শিক্ষকদের ভূমিকা

প্রতিবেদন তৈরির সময়: সকাল টা

প্রতিবেদন তৈরির তারিখ: ৩১/০৫/২০২১ ইং

প্রতিবেদকের নাম ঠিকানা:

হাবিবুর রহমান

পাইকপাড়া বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

 রেজি:

ভূমিকা

প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য শিশুর  দৈহিক, মানসিক, নৈতিক, আধ্যাতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নান্দনিক বিকাশ সাধন এবং উন্নত জীবনের স্বপ দর্শনে উদ্ধুদ্ধকরণ। উক্ত লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য শিক্ষাক্রমের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত যে সমস্ত কার্যক্রম  তাকে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলি বলা হয়। শিক্ষাক্রমের আওতাভূক্ত গণিত, বাংলা, ইংরেজি, সমাজ, বিজ্ঞান, ধর্ম ইত্যাদি ছয়টি বিষয় ছাড়াও সংগীত, চারু ও কারুকলা এবং শারীরিক শিক্ষা এই তিনটি বিষয়কে ইতিমধ্যে শিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের অন্তভূর্ক্ত করা হয়েছে। উক্ত বিষয়গুলোকে সমৃদ্ধশালী ও পরিপূর্ণ করার জন্য এবং শিশুর বহুমুখী বিকাশসাধনের জন্য বিশেষ করে শিশুর দৈহিক, মানসিক, নৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের গুরুত্ব অপরিসীম।

সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম

সহ শিক্ষাক্রমিক কার্য বলতে সাধারণভাবে পুঁথিগত বিষয়ের বাইরে জ্ঞানার্জনের প্রক্রিয়াসমূহকে বোঝায়। এই প্রক্রিয়া  শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশের সাথে সাথে সামগ্রিক জীবন ও সৃজনশীলতার বিকাশে পূর্ণ সহযোগিতা করে। সহ-শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলীর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এ ধরনের কার্যাবলী শ্রেণীকক্ষের পঠন পাঠনের একঘেঁয়েমী ও অবসন্নতা দূর করে এবং সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে সহায়তা করে। এছাড়া ছাত্রছাত্রীদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার ঘটায় ও তাদেরকে মূল্যবোধে উজ্জীবিত করে। অধিকন্তু প্রতিষ্ঠানের সহ- শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলীতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের প্রতিষ্ঠানের প্রতি আনুগত্য বৃদ্ধি পায় এবং দেশ ও সমাজ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। এর মাধ্যমে তরুণ ছেলেমেয়েরা বাস্তব জীবনের সাথে প্রত্যক্ষভাবে পরিচিত হয় এবং সহযোগিতা, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জাগিয়ে তোলে। সর্বোপরি সহ- শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলীর মাধ্যমে শৃঙ্খলাবোধ জাগরিত হয়, ভবিষ্যত বৃত্তি নির্বাচনে সহায়ক হয়। এমনকি প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধিসহ সকলের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সুসম্পর্ক সৃষ্টি হয় এবং তরুণ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অবসর সময়কে কাজে লাগানোর অভ্যাস গড়ে ওঠে।

সহ শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলীর গুরুত্ব

শিক্ষা ব্যবস্থায় সহ শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলীর গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমান সময়ে সহ শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী এত বৈচিত্রময় যে, সব কাজের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করা সম্ভবপর নয়। প্রকৃতি ও উদ্দেশ্যের উপর ভিত্তি করে সহ শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলীকে বিভিন্ন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়। সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে খেলাধুলা ও শরীরচর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। সহ শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী হিসেবে বিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরণের শরীরচর্চামূলক কাজ ও ব্যায়াম করা যেতে পারে। শরীর চর্চামূলক কাজ হিসেবে দৌড়, লাফ, ঝাঁপ গৃহীত হতে পারে। এছাড়া যেসব সহ শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী শিক্ষার্থীকে সৃজনশীল হতে সাহায্য করে, জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়ন ঘটায় সেগুলো শিক্ষামূলক কার্যাবলীর অন্তর্গত। বিতর্ক প্রতিযোগিতা, দেয়ালিকা, স্কুল বার্ষিকীতে লেখালেখি, বিজ্ঞান ও বইমেলা, কবিতা লেখা, গল্প লেখা, ছবি আঁকা ইত্যাদি শিক্ষামূলক কার্যাবলী হিসেবে পরিচিতিঅধিকন্তু বিভিন্ন জাতীয় ও ধর্মীয় দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা। সাংস্কৃতিক ক্লাব গঠন করে সংগীত, নাট্যানুষ্ঠান, কবিতা, আলোচনা সভার আয়োজন করা এবং সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত বৃত্তি নির্বাচনের ব্যাপারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিচালিত কিছু কিছু কার্যক্রম সহায়তা করে। হাঁস-মুরগী পালন, শাক-সব্জি চাষ, হস্তশিল্প, সেলাই, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ইত্যাদি শিক্ষার্থীর মধ্যে নির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে। সর্বোপরি সামাজিক গুণের বিকাশ ঘটে থাকে। সাক্ষরতা অভিযান, স্বাস্থ্য সপ্তাহ পালন, রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা যেতে পারে সামাজিক গুণের বিকাশ হিসেবে।

সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলি পরিচালনার কৌশল

সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলি বাস্তবায়নে সবার আগে শিক্ষকরা এগিয়ে আসতে হবে। শিক্ষকদের পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থীরাও এগিয়ে আসে । সহশিক্ষা্ক্রমিক কার্যবলি বাস্তবায়ন করতে হলে সর্বপ্রথম পরিকল্পনা করতে হবেএবং চিহ্নিত করতে হবে কি সহশিক্ষাক্রমিক কার্য়বলি করতে হবে।যেমন: নিচে কতগুলো সহশিক্ষাক্রমিক কার্যবলি চিহ্নিত করা হল:

১। খেলাধুলা ও শরীরচর্চা মূলক কাজ- হাডুডু, ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, কাবাডি, বিভিন্ন ব্যয়াম ইত্যাদি।

২। শিক্ষামূলক কার্যাবলী- বিজ্ঞান/ বই মেলা, শিক্ষা সফর, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, দেয়ালিকা, কবিতা, ছবি আঁকা ইত্যাদি।

৩। সংস্কৃতি ও বিনোদন মূলক কাজ-বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতীয় দিবসে অনুষ্ঠান আয়োজন, সাংস্কৃতিক ক্লাব গঠন ইত্যাদি। 

৪। বৃত্তিমূলক কার্যক্রম- সেলাই, হস্ত শিল্প, হাঁস মুরগী চাষ, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ইত্যাদি।

৫। সামাজিকগুণের বিকাশ- বৃক্ষরোপণ, সাক্ষরতা,রক্তদান কর্মসূচী ইত্যাদি।

৬। ভ্রমণমূলক কার্যাবলী- শিক্ষা সফর, বনভোজন, স্কাউটিং ইত্যাদি।

 

এ সকল সহশিক্ষাক্রমিক বাস্তবায়নে নিচের কৌশল সমূহ প্রয়োগ করা যেতে হবে।

 ১। সহ শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলীতে শিক্ষার্থীকে বিষয় নির্বাচনে স্বাধীনতা দিতে হবে।

২। সহ শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী স্কুল চলাকালীন সময়ে শেষ করতে হবে।

৩। সহ শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী বিদ্যালয়ের সময় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

৪। সহ শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী বাস্তব প্রয়োগে ছাত্র শিক্ষক- অভিভাবক সম্পর্ক জোরদার করতে হবে।

৫। সহ শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলীর জন্য বৎসরের শুরুতেই বাজেট রাখতে হবে।

৬। শিক্ষকদের অনীহা কাটাতে হবে।

৭। এসএমসির সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।

৮। শিক্ষার্থীদের প্রণোদিত করতে হবে।

সহ শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী পরিচালনার জন্য এসকল  মূলনীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীর অবশ্যই সহ শিক্ষাক্রমিক কাজ পছন্দ করার স্বাধীনতা থাকতে হবে। যার মাধ্যমে কাজে স্বতঃস্ফূর্ততা আসবে। বিদ্যালয় চলাকালীন  এই কার্যক্রম হলে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। সহ শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে, যেন শ্রেণী কক্ষের কাজ বিঘ্নিত না হয়। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকমন্ডলী দ্বারা সহ শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী পরিচালনা করতে হবে।

নবনিযুক্ত শিক্ষকদের ভূমিকা

নবনিযুক্ত শিক্ষকরা সহশিক্ষাক্রমিক বাস্তবায়নে অবশ্বেই সিনিয়র শিক্ষকদের থেকে অভিজ্ঞতা নিতে হবে যাতে এ কাজে তার জড়তা দূর হয় । এছাড়া নতুন শিক্ষক হিসেবে তাকে ট্রেনিং এর প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। তার বাস্তব জীবনে অভিজ্ঞতা কাজি লাগাতে হবে।এলাকার বিজ্ঞ ব্যাক্তিদের সাথে সমন্বয় করে নবনিযুক্ত শিক্ষকরা সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম পরিচালা  করবেন।

সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমে অবশ্যই পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন। গাইড লাইন অনুসরণ পূর্বক সকল শিক্ষার্থীরা যাতে অংশগ্রহণ করতে পারে সে ব্যবসথা গ্রহণ করবেন।

উপসংহার:

সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলি শিশুর সার্বিক বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। যেমন- খেলাধুলা ও শবীর চর্চার বিষয়টি শিশুর দৈহিক বিকাশে বা শারীরিক বর্ধনে সহায়ক ভূমিকা রাখে। সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের অনুশীলণন শিশুমনের সুকুমার বৃত্তির উন্মেষ ঘটায় এবং শিশুর নাক্সদনিকতার বিকাশ সাধন করে। সাহিত্য বিষয়ক কর্মকান্ডের অনুশীলন শিশুর লেখালেখির হাত মজবুত করে সাহিত্য প্রতিভার বিকাশ সাধন করে। শিশুর সামাজিকতা ও ক্সনতিকতার বিকাশ সাধনে ভূমিকা রাখতে প্রয়োজন সামাজিক কর্মকান্ড বিষয়ক কার্যাবলি। বিদ্যালয় এবং সমাজের প্রতি, মানুষের প্রতি দায়িত্ব সচেতনতার বোধ জাগায় ও শিশুর মানবিক গুণাবলির উন্মেষ ঘটায়। আকস্মিক ও জরুরী প্রয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ, যেমন বন্যা ও ঘূর্নিঝড় ইত্যাদিতে সেবা প্রদান করা যায়। এ ধরনের সমাজ সেবামূলক কাজে যোগদানের ফলে শিক্ষার্থীর মধ্যে সামাজিক চেতনা, শৃঙ্খলাবোধ, সেবার মনোভাব, স্বার্থত্যাগসহ বাঞ্ছিত গুণের বিকাশ ঘটে।

 

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্টুডেন্ট কাউন্সিল গঠন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলী বিকশিত করা এবং তাদেরকে দায়িত্ববান সুনাগারিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্টুডেক্সটস কাউন্সিল গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ২০১০ সনে ১৯টি জেলার ২০টি উপজেলায় ১০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মত প্রাথমিক বিদ্যালয় স্টুডেক্সটস কাউন্সিল গঠন করা হয়। ২০১০ সনে প্রথম বারের মতো নির্বাচিত স্টুডেক্সট কাউন্সিলের সার্বিক কার্যক্রমে শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ এবং উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১১ সনে ৭৪৩টি বিদ্যালয়ে, ২০১২ সালে ১৩,৫৮৩টি বিদ্যালয়ে, ২০১৩ সালে ৪৬,৭৭৩টি বিদ্যালয়ে, ২০১৪ সালে ৬১,১৯১টি বিদ্যালয়ে, ২০১৫ সালে ৬৪,২২৩টি বিদ্যালয়ে, ২০১৬ সালে ৬৪,৭৯০টি বিদ্যালয়ে সারাদেশে একযোগে স্টুডেক্সটস কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। স্টুডেক্সটস কাউন্সিল এর সাফল্যজনক কর্মকান্ডের ধারাবাহিকতায় পর্যায়ক্রমে দেশের সকল প্রাথমকি বিদ্যালয়ে স্টুডেক্সট কাউন্সিল গঠনের সিদ্ধাÍে হয় এবং সে মোতাবেক প্রতিবছরের শুরুতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্টুডেক্সটস কাউন্সিল গঠন ও নির্বাচন বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর হতে পত্র জারি হয়ে থাকে।

স্টুডেন্টস কাউন্সিলের গঠন প্রক্ষিয়া

ছাত্রছাত্রীদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রত্যেক স্টুডেক্সটস কাউন্সিলে ৭ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকবে যারা একবছর মেয়াদের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন। তন্মধ্যে ৩য় শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীরা নির্বাচনে প্রার্থী হবে এবং ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যÍে প্রতি শ্রেণি থেকে কমপক্ষে ২ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হবে। প্রতিবছর জানুয়ারি-ফ্রেব্রæয়ারি মাসে স্টুডেক্সটস কাউন্সিলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচিতদের মধ্যে একজন প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হবেন। এছাড়াও প্রতি শ্রেণিকক্ষ/শাখা থেকে (১ম-৫ম শ্রেণি) ১ জন ছাত্র ও ১ জন ছাত্রীকে সহযোগী প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করা হয় যারা স্টুডেক্সটস কাউন্সিলের কাজে সহযোগিতা করে থাকে। উল্লেখ্য, স্টুডেক্সটস কাউন্সিল নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনার, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার এবং শৃখলার দায়িত্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরাই পালন করে। শিক্ষক ও ¯‥ুল ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং অভিভাবকগণ এ বিষয়ে সহযোগিতা করেন। নির্বাচনে মুদ্রিত পোস্টার ও প্রতীক ব্যবহার করা হয় না।

 

নিরাপদ সড়ক

বাংলাদেশ পৃথিবীর একটি অন্যতম জনবহুল দেশ। বাংলাদেশের আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর-এর আওতায় ৩৮১২.৭৮ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক ও ৪২৪৬.৯৭ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়ক রয়েছে। দেশের বিভিন স্থানে সহজে ও স্বল্প ব্যয়ে যাত্রী চলাচল ও পণ্য পরিবহণে সড়ক পথ অত্যে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। বর্তমানে যাত্রী পরিবহনের প্রায় ৭০% এবং পণ্য পরিবহনের ৮০% সড়ক পথে পরিবহণ করা হয়ে থাকে। সে কারণে সড়ক পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যÍে গুরুত্বপূর্ণ। সড়ক দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য, কারণ দুর্ঘটনা ঘটেনা, ঘটানো হয়। অর্থাৎ দুর্ঘটনা কোন অলেকিক কারণে সংঘটিত হয়না, বরং লেকিক কারণে হয়ে থাকে-সেটা হতে পারে চালকের ত্রুটি, যানবাহনের, পথচারীর বা রাস্তার ত্রুটি ইত্যাদি। যদি এ সব বিষয় নিয়¿েণ করা যায় তাহলে সড়ক দুর্ঘটনার হার কমানো সম্ভব। দুর্ঘটনা কমলে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে হ্রাস পাবে। এ জন্য প্রয়োজন সড়ক নির্মাণকারী সংস্থা, প্রশাসন, পুলিশ, পরিবহণ মালিক, পরিবহণ শ্রমিক, জনসাধারণ, সড়ক ব্যবহারকারী সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

সড়ক দুর্ঘটনা কারণসমূহ :

মাত্রাতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত যাত্রী ও মাল বহন করা, বিপজ্জনক/ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেক করা,  ত্রুটিযুক্ত গাড়ি চালানো, প্রশিক্ষণবিহীন ও স্বল্প প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত অদক্ষ অযোগ্য ড্রাইভার কর্তৃক গাড়ী চালানো এবং নেশাগ্রস্থ অবস্থায় গাড়ী চালানো, মহাসড়কে ধীর গতি সম্পন যানবাহন চলাচল যেমন থ্রি হুইলার, নসিমন, করিমন, ভটভটি, ইজি বাইক ইত্যাদি, অপ্রশস্ত রাস্তা এবং রাস্তার নির্মাণজনিত ত্রুটি, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, বধভাবে ওভার টেকিং করা এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করা, বাসের ছাদে ও মালবাহী ট্রাকের উপর যাত্রী/মালামাল বহন করা, নিরাপদে সড়ক ব্যবহার সম্পর্কে সড়ক ব্যবহারকারীদের অজ্ঞতা ও আইন না মানার প্রবণতা, ফুটপাথ ব্যবহার না করে রাস্তার মাঝ পথে চলা এবংফুট ওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে ব্রিজের নীচ দিয়ে রাস্তা পার হওয়া, বিভিন পরিবহনের অসুস্থ ও বিপদজনক প্রতিযোগিতা,যত্রতত্র পার্কিং ও রাস্তার মাঝে গাড়ি দাঁড় করানো, সড়ক নিরাপত্তা জনিত ট্রাফিক সাইন/সিগন্যাল ও রোড মার্কিং পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকা, বধভাবে ফুটপাথ দখল এবং মহাসড়কের পাশে অবধ হাটবাজার ও অবকাঠামো নির্মাণ, ডানে ও বামে না দেখে দেড়ে রাস্তা পার হওয়া এবং পথচারী ও সড়ক ব্যবহারকারীগণ কর্তৃক অসতর্কভাবে সড়ক ব্যবহার করা, মহাসড়কগুলোতে ডিভাইডার না থাকা, ট্রাফিক আইন প্রয়োগে শিথিলতা, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের হেলমেট ব্যবহারে অনীহা, গাড়ি চালানো অবস্থায় চালক কর্তৃক এয়ার ফোন ও মোবাইল ফোনে কথা বলা, হেলপার দ্বারা গাড়ি চালানো প্রভৃতি।

সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিকারের উপায়সমূহ

মাত্রাতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো ও অতিরিক্ত মালামাল বোঝাই/গাড়ি ছাদে যাত্রী উঠানো এ সব কার্যক্রম বন্ধে হাইওয়ে পুলিশের টহল বাড়ানো এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা, পেশাজীবী গাড়ি চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান, জাতীয় মহাসড়কে -হুইলার অটোরিক্সা ও অটোটেম্পু, ইজিবাইক, নসিমন, করিমন, ভটভটি ও ব্যাটারিচালিত যানবহান এবং সকল প্রকার অযাচিত যানবাহন চলাচল বন্ধ করা, যানবাহনে অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রনের (এক্সেল লোড) বিষয়টি আরও কঠোরভাবে কার্যক্রম করা, মহাসড়কের পাশে ¯মুভিং যানবহানের জন্য আলাদা রো/লেন নির্মাণ করা, হাইওয়ের টার্নিং পয়েক্সেট রোড-ডিভাইডার নির্মাণ এবং পর্যাপ্ত ট্রাফিক সাইন ও সিগন্যাল স্থাপন করা, পথচারীদের ফুটপাথ ও ফুট ওভার ব্রিজ ব্যবহার বাধ্য করা, প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চালানো হতে চালকদের বিরত রাখা, প্রধান মহাসড়গুলোতে ডিভাইডার দেয়া এবং ক্রটিপূর্ণ রাস্তা তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত করা, অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো বন্ধে কার্যকর করা এবং নির্ধারিত গতিসীমার মধ্যে গাড়ি চালাতে চালকদেরকে বাধ্য করা, সড়ক নিরাপত্তামূলক বক্তব্য ও বিজ্ঞাপন বিভিন ইলেকটনিক ও প্রিক্সট মিডিয়াতে প্রচার করা, ¯স্কুল/কলেজের পাঠ্যসূচিতে শ্রেণি ও বয়সভিত্তিক সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক পাঠ্য অর্ভেুক্তির ব্যবস্থা করা, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীকে হেলমেট পরিধান এবং গাড়ীচালকদের সিটবেল্ট ব্যবহারে বাধ্য করা, গাড়ি চালকদের নেশা জাতীয় পানীয় সেবন ও তন্দ্রা অবস্থায় গাড়ি চালানো হতে বিরত থাকা, সড়ক/মহাসড়কে ধান শুকানো ও নির্মাণ সামগ্রী রাখা বন্ধ করা, সড়ক ও মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রবন এলাকা চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা, প্রতি পাঁচ ঘণ্টা গাড়িচালনার পর কমপক্ষে আধাঘণ্টা বিশ্রাম, দিয়ে সর্বোচ আট ঘণ্টা এবং সপ্তাহে আটচল্লিশ ঘণ্টা র অধিক গাড়ি না চালানো, দূর পাল্লার গাড়িতে একাধিক চালক নিয়োগ নিশ্চিত করা।

প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনার উল্লেখযোগ্য কমিটি: এসএমসি, পিটিএ, স্লিøপ

প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনার উল্লেখযোগ্য কমিটি: এসএমসি, পিটিএ, স্লিøপ


 

 

 

 

 

 

 

প্রতিবেদনের শিরোনাম:

প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনার উল্লেখযোগ্য কমিটি: এসএমসি, পিটিএ, স্লিø

প্রতিবেদন তৈরির সময়: সকাল টা

প্রতিবেদন তৈরির তারিখ: ৩০/০৫/২০২১ ইং

প্রতিবেদকের নাম ঠিকানা:

হাবিবুর রহমান

পাইকপাড়া বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

 রেজি

 

আলোকিত জনগোষ্ঠী গড়তে বাংলাদেশে শিক্ষার গুণগত মান উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত এক দশকে শিক্ষার সর্বস্তরেই চোখে পড়ার মতো অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। শিক্ষার এই ব্যাপক অগ্রগতি ও সক্ষমতা অর্জন অর্থনীতির ভিত্তিকেও করেছে মজবুত ও টেকসই, দেশকে বিশ্বের বুকে দিয়েছে পৃথক পরিচিতি। একসময় বিপুলসংখ্যক কোমলমতি শিশু স্কুলে যাওয়ারই সুযোগ পেতো না। অনেকে আবার স্কুলে গেলেও প্রাথমিক পর্যায় থেকে ঝরে পড়তো।

প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ সরকার নানাভাবেই বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রতিটি নাগরিকের শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ব্যাপক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ প্রণয়ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশাল সাফল্য। তবে তার টেকসই বাস্তবায়ন সম্ভব হতে পারে বিভিন্ন অংশীজনের  সমন্বিত প্রয়াসের মাধ্যমে।

বাংলাদেশের যে সকল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে শিক্ষা বিভাগ টি এগিয়ে চলছে তারমধ্যে সবচেয়ে চ্যালেন্জিং ও প্রধান অংশ হচ্চে প্রাথমিক শিক্ষা । প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে স্বার্থক ও কল্যানমুখী করতে কতগুলো উল্লেখযোগ্য কমিটি ও সমাবেশ করার কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষায় উন্নয়নে এসকল কমিটি ও সমাবেশ বিশেষ অবদান রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি)

বিদ্যালয় একটি সমাজের পড়াশোনার প্রতিষ্ঠানিক কাঠামো। এলাকার শিশুরা এখানে পড়াশোনার পাশাপাশি অনেক নতুন কিছু শিখতে পারে।একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিশুর বেড়ে উঠার সাথে সাথে তাকে গ্রন্থবিদ্যা ও হস্তলিখা শিক্ষার সাথে সাথে নৈতিক মান সম্পূর্ণ করে গড়ে তুলতে পারে।শুধুমাত্র একজন দক্ষ প্রধান শিক্ষক এবং দক্ষ সহকারী শিক্ষকগণ কর্তৃক একটি আদর্শ বিদ্যালয় গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সমাজের শিক্ষিত ও সচেতন জনগোষ্ঠি বিদ্যালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ না করলে বিদ্যালয়ের শিখন-শেখানো কার্যক্রমের গুণগতমান বৃদ্ধি করা দূরুহ হয়ে পড়েতাই বিদ্যালয়ে শিখন-শেখানো কর্যক্রম সুষ্ঠভাবে সম্পূর্ণ ও কার্যকর করার জন্য সমাজ সম্পৃক্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি)-এর মাধ্যমে বিদ্যালয় সমাজ সম্পৃক্ত হয়ে উঠে। তাছাড়া অভিভাবকগণ বিদ্যালয় সম্পৃক্ত হলে শিক্ষকগণের জবাবদিহিতাও নিশ্চিত হয়। এজন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে এসএমসি রয়েছে। এসএমসি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করতে পারলে বিদ্যালয়ের উন্নতি সাধন করা সহজ হয়। নিচে এসএমসির গঠন- দায়িত্ব ও কর্তব্য দেওয়া হল:

কমিটি গঠন:

১.১ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক/ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক- সদস্য সচিব

১.২ অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকদের মধ্য হতে মনোনীত একজন বিদ্যোৎসাহী মহিলা অভিভাবক (নূন্যতম এসএসসি পাশ)- সদস্য

১.৩ অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকদের মধ্য হতে মনোনীত একজন বিদ্যোৎসাহী পুরুষ অভিভাবক (নূন্যতম এসএসসি পাশ)- সদস্য

১.৪ বিদ্যালয়ের একজন জমিদাতা/জমিদাতার উত্তরাধিকারী (যদি থাকেন)-সদস্য

১.৫ একই উপজেলার সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী যে কোন সরকারি /বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালযের একজন শিক্ষক/শিক্ষিকা-সদস্য

১.৬ সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক /শিক্ষিকাদের মধ্যে থেকে নির্বাচিত একজন শিক্ষক প্রতিনিধি - সদস্য

১.৭-১.৮ সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্রছা্ত্রীদের অভিভাবকদের মধ্য হতে নির্বাচিত দুজন মহিলা অভিভাবক-সদস্য

১.৯-১.১০ সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্রছা্ত্রীদের অভিভাবকদের মধ্য হতে নির্বাচিত দুজন পুরুষ অভিভাবক-সদস্য

১.১১ ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্য/পৌর এলাকার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিশনার/সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর- সদস্য

এসএমসির  দায়িত্ব ও কর্তব্য

 ১। প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবেন।

২। বিদ্যালয়ের শিক্ষাদান সংক্রান্ত কার্যাবলীর পরিবীক্ষন ( মনিটরিং ), বিদ্যালয়ের ব্যাবস্থাপনা, শিক্ষক-ছাত্রের উপস্থিতি,শিক্ষক- শিক্ষিকাদের কর্তব্য পরায়ণতা ও পাঠদানের উপর প্রতি জানুয়ারি, এপ্রিল, জুলাই ও অক্টোবর মাসের ৭ তারিখের মধ্যে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন প্রেরন ( এই প্রতিবেদনে চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিব অর্থাৎ প্রধান শিক্ষক যুগ্ম ভাবে স্বাক্ষর করবেন )।

৩। উন্নয়ন মুলক কাজ, যেমন- বিদ্যালয় গৃহ, রাস্তা নির্মান, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা সহ অন্যান কাজে সাহায্য ও সহযোগিতা প্রদান করবেন।

৪। বিদ্যালয় গমনপযোগি সকল শিশুকে বিদ্যালয়ে ভর্তি, উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয় ত্যাগি শিশুদের ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ গ্রহন, ঝরে পড়া রোধ করাও এস এম সির সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।।

৫। প্রতি মাসে একবার কমিটির সভা অনুষ্ঠান, বিদ্যালয়ের কার্যাবলী ও অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং গৃহিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহন করা ।

৬। মাসিক রিটার্নে /শিক্ষকদের বেতন বিলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির চেয়ারম্যান ( সভাপতি ) প্রতিস্বাক্ষর করবেন এবং তা কমিটির সদস্য সচিব অর্থাৎ প্রধান শিক্ষক উপজেলা শিক্ষা অফিসে প্রেরন করবেন।

৭। বিদ্যালয়ের সমস্যাবলি নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণ ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির যোগসূত্র স্থাপন এবং সমন্বয় সাধন করবেন ।

৮। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় সংস্কার ও মেরামত কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর সমাপ্তি প্রতিবেদনে ম্যানিজিং কমিটির সংগে আলোচনা করে কমিটির সদস্য সচিব অর্থাৎ প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর প্রদান নিশ্চিত করবেন ।

৯। উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবং সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সহযোগিতায় বার্ষিক কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়ন করবেন ।

১০। বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়নে জমি, রাস্তা, খেলার মাঠ এবং বৃক্ষ রোপন ও তা পরিচর্যা করবেন ।

১২। পাঠ্যপুস্তক এবং শিক্ষা উপকরন সংগ্রহ, সংরক্ষন এবং বিতরন করবেন ।

১৩। বিদ্যালয়ের সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম যেমন- জাতিয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ ও পক্ষ, আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, পুরুস্কার বিতরণী , খেলা ধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, মিলাদ মাহফিল ইত্যাদি কার্যক্রম আয়োজন ও সম্পাদনে সহযোগিতা প্রদান করবেন ।

১৪। শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি কর্মসুচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান করবেন ।

১৫। শিক্ষক-অভিভাবক সমিতির (পিটিএ)সংগে সংযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করবেন ।

১৬। বিদ্যালয়ের সাব-ক্লাষ্টার ট্রেনিং এ সহযোগিতা প্রদান করা। বিদ্যালয় পরিদর্শনে সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে সহযোগিতা প্রদান করা এবং প্রয়োজনে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন ।

১৭। এছাড়াও সরকার কর্তৃক অর্পিত অন্য যে কোন দায়িত্ব পালন করবেন ।

শিক্ষক অভিভাবক সমিতি (পিটিএ)

শেখানো কার্যক্রম সুষ্ঠভাবে সম্পূর্ণ করতে হলে শিশুদেরকে নিবিড়ভাবে জানতে হয়। আর শিশুকে নিবিড়ভাবে জানার জন্য তাদের মা-বাবা, অভিভাবকের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা জরুরি। তাছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন ও অভিভাবকগণ বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শিক্ষকগণের সঙ্গে মত বিনিময়ের মাধ্যমে শিশুদের দুর্বলতা নির্ধারণ করা এবং তা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়তা করা প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ কাজে শিক্ষকগণকে সহায়তা করতে পারেন। তাছাড়া অভিভাবকগণ বিদ্যালয় সম্পৃক্ত হলে শিক্ষকগণের জবাবদিহিতাও নিশ্চিত হয়। এজন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অভিভাবক সমিতি (পিটিএ) রয়েছে। শিক্ষক অভিভাবক সমিতি অভিভাবকগণের সাথে বিদ্যালয়ের সুসম্পর্ক স্থাপন করতে পারে। ফলে বিদ্যালয়ের প্রতি জনগণের অংশীদারিত্বমূলক মনোভাবের সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয় হয়ে ওঠে জনগণের প্রতিষ্ঠান। পিটিএ কার্যকর থাকলে শুধু শিক্ষকগণেরই নয় এসএমসির দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনেও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।

সমিতি গঠনের লক্ষ্যে ও উদ্দেশ্য:

Ø  শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা।

Ø  শিক্ষক-অভিভাবকদের যৌথ প্রয়াসে শিক্ষার গুণগত মনোনয়নের জন্য গৃহীত উদ্যোগকে জোরদার করা।

Ø  বিদ্যালয়ের সার্বিক কর্মকান্ডে অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করা। তৃণমুল পর্যায়ে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা।

Ø  শিক্ষক-অভিভাবকদের দায়িত্ব ও কর্তৃব্যের মূল্যায়ন করা। স্থানীয়ভাবে সমস্যার সমাধানকে উৎসাহিত করা

Ø  কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন

স্লিপ:

 

বিদ্যালয় পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা (School Level Improvement Plan) সংক্ষেপে (SLIP) নামে পরিচিত। মূলতঃ এটি একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা। এটি প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নের একটি প্রারম্ভিক দলিল হিসেবে বিবেচিত এবং বিদ্যালয়ে উন্নয়নের একটি অন্যতম হাতিয়ার। মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় বিদ্যালয়ের শিখন শেখানো ও শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষার সামগ্রিক মানোন্নয়নের জন্য তিন বছরের একটি আবর্তক পরিকল্পনা হিসেবে প্রণয়ন করা হয়। উক্ত মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রতি অর্থবছরের একটি বার্ষিক কর্ম পরিকল্পনা বা AWP (Annual Work Plan) প্রণয়ন কতে হবে, যা স্লিপ দলিলের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। স্লিপ প্রণয়নকালে স্থানীয় জনগণের আশা-প্রত্যাশা প্রাধিকার প্রদান করতে হবে। স্লিপ বাস্তবায়নের মাধ্যম সকল বিদ্যালয়কে কার্যকরি ও শিশুবান্ধব প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করে শিশুদের জন্য একটি আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টিতে সক্ষম করতে হবে যা শিক্ষার মানোন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে। এটি বিদ্যালয় পর্যায় হতে কেন্দ্রিয় পর্যায় পর্যন্ত নিম্ন হতে ঊর্ধ্বগামী চাহিদাভিত্তিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া। এ উন্নয়ন পরিকল্পনার মূল উপজীব্য বিষয় হল বিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস্তবতা এবং প্রয়োজনভিত্তিক বিদ্যালয় পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়ন। স্লিপ গ্র্যান্টকে সিডমানি বা উদ্যোগ শুরুর অর্থ হিসেবে গণ্য করে স্থানীয় সম্পদের সমন্বয়ে বিদ্যালয়কে কাক্ষিত মানে উন্নীতকরণ এর লক্ষ্য। বিদ্যালয়ে শিশুবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করে একীভূত, সমতাভিত্তিক, সুষম ও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতরকরণের লক্ষ্যে বিদ্যালয়ের সাথে সম্পর্কিত শিক্ষক শিক্ষার্থী, এসএমসি, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগেষ্ঠির সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্লিপ প্রণীত হয়। স্লিপের সুষ্ঠ বাস্তবায়ন পিইডিপি ৪ এর লক্ষ ও উদ্দেশ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।